প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
দাউদকান্দির জামালকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ঘটনাকে হত্যা চেষ্টা বলে অভিযোগ দায়ের
ডেস্ক রিপোর্ট ||
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জামালকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ঘটনাকে হত্যা চেষ্টা উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহত গৃহবধুর বাবা। গত ১২ জুন শুক্রবার জামালকান্দি ওছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিরিনা আক্তার নামে এক গৃহবধু মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার বাবা মতলব উত্তর উপজেলার জঙ্গল ইসলামাবাদ গ্রামের মোঃ দেওয়ান আলী বাদী হয়ে মেয়ে জামাই মাছুম সরকারের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মাসুম সরকার দাউদকান্দি উপজেলার শ্রীরায়েরচর গ্রামের রাজ্জাক সরকারের ছেলে।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম শিরিনা আক্তারের সঙ্গে ১নং বিবাদী মোঃ মাসুম সরকার এর বিগত পাঁচ বছর পূর্বে ইসলামী শরিয়াত মতে বিবাহ হয়। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার বিবাহের সময় মাসুমকে একটি স্বর্ণের আংটি, এক জোড়া কানের দুল এবং একটি স্বর্নের চেইন, যার ওজন ২ ভরি, দুইটি খাট, কেবিনেট, ষ্টীলের আলমারীসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র দেয় তার পিতা-মাতা। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে রাফসান নামে ৩ বছর বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে।বাদীর অভিযোগ, সংসার জীবনে মাসুম তার বোন ও পরিবারের সদস্যদের প্ররোচনায় যৌতুকের জন্য ভিকটিম শিরিনাকে অত্যাচার নির্যাতন করতো। মাসুম সরকারকে ধার হিসাবে নগদ দুই লাখ টাকা দিলে কিছু দিন অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে মাসুম সরকার পূনরায় যৌতুকের দাবি করলে শিরিনা যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় মাসুম তাকে মারধর সহ অত্যাচার নির্যাতন অব্যাহত রাখে। বাদী দেওয়ান আলী বলেন, একপর্যায় মাসুম সহ তার পরিবারের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে শিরিনাকে মেয়ের হত্যার করার জন্য পরিকল্পনা করে। উক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১২ জুন সকাল আনুমানিক ১১ ঘটিকার সময় মাসুম তার বোন সানু বেগম, রানু বেগম, শারমিন আক্তার, লিপিকা আক্তার ও জুয়েল মিয়া গংদের প্ররাচনায় বিবাদী মাসুম সরকার শিরিনাকে ঢাকায় ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ী থেকে অটোরিক্সাযোগে রওনা করে জামালকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌছালে শিরিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অটোরিক্সা থেকে ধাক্কা দিয়ে ট্র্যাকের নিচে ফেলে দেয় মাসুম। শিরিনা উক্ত গাড়ীর চাকার নিচে মাথা পড়ে পিষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়। বাদীর ধারণা, বিবাদীগন পরস্পর যোগসাজশে তার মেয়ে ভিকটিম শিরিনা আক্তারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অটোরিক্সা থেকে ধাক্কা দিয়া অজ্ঞাতনামা ট্র্যাকের নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে।এদিকে শিরিনার স্বামী অভিযুক্ত মাসুম সরকার বলেন, আমার স্ত্রী শিরিনাকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য দাউদকান্দি যাওয়ার পথে অটোরিক্সাযোগে জামালকান্দি পৌছলে একটি মাইক্রো গাড়িকে ওভারটেকিং করার সময় হার্ডব্রেক করার কারণে আমার স্ত্রী ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। তার মাথার উপর দিয়ে ট্রাকের চাকা উঠে এবং পৃষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। এ ঘটনায় অটোরিক্সা চালকের সম্পূর্ণ ভুল ছিল, আমি তার বিরুদ্ধে মামলার করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী শিরিনা সহ আমরা খুবই সুখে শান্তিতে ছিলাম। আমি বা আমার পরিবারের কেউ তাকে কোন অশান্তি করেনি।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত