প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
সেন্টমার্টিনের একমাত্র হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা, দুর্ভোগে দ্বীপবাসী।
আবদুল হামিদ ||
বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের শেষ সীমান্তে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এই দ্বীপে (প্রায়) ১২,০০০ হাজার মানুষের বসবাস। আছে একটি মাত্র হাসপাতাল। হাসপাতালটির নাম রাখা হয় "সেন্টমার্টিন ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল"। দ্বীপের মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে, ইমার্জেন্সি কন্ডিশনের রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়ে রয়েছে ঘাটতি। রয়েছে বিশাল হাসপাতাল, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা। সম্প্রতি, এই হাসপাতাল কে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। স্হানীয়রা অভিযোগ করেছেন - দ্বীপের মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা " সেন্টমার্টিন ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল"- এ প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। এছাড়াও তাদের সবচেয়ে বড়ো অভিযোগ - হাসপাতাল রেফার নিয়ে। কয়েকজন স্হানীয়রা জানিয়েছেন - রোগীর অবস্থা সামান্য সংকটাপন্ন অবস্থার সৃষ্টি হলেই হাসপাতালের চিকিৎসকরা টেকনাফ কিংবা কক্সবাজার রেফার করে দেন। রেফার করে দেওয়ার কারণে যারা অসচ্ছল তারা তৎক্ষনাৎ টেকনাফ যেতে পারে না। কারণ, একটি স্পীড বোট অথবা কাঠের ট্রলার রিজার্ভ নিতে গেলেও তা অসচ্ছল রোগীর সাধ্যের বাইরে। ফলে, রোগীর অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। এতে রোগীর স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এভাবেই অনেক রোগী টেকনাফ চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথেই মারা যান। বিগত ২/১ বছরে এমন অপ্রত্যাশিত অনেক ঘটনা ঘটেছে।হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাক্ষাৎকারে জানান, "সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করেও হাসপাতালের চিকিৎসকরা রেফার দিয়ে থকেন। এছাড়াও হাসপাতাল থেকে দেওয়া প্রেসক্রিপশনের অধিকাংশ ঔষধ ফার্মেসি থেকে কিনে নিতে হয়। এতে যারা গরীব-অসহায় তারা টাকা দিয়ে সব ঔষধ কিনে নিতে পারে না। হাসপাতালে যথেষ্ট পরিমাণ ঔষধ রাখা উচিৎ। এখন বর্ষাকাল, দ্বীপের আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকে না। একজন রোগী চাইলেও টেকনাফ গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবে না। দ্বীপের সচেতন মহল জানান, " দ্বীপে এতো বড়ো হাসপাতাল থাকতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা নিবে কেন? সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাসপাতাল করেছেন। সেই হাসপাতাল যদি রোগীর জরুরী অবস্থায় সাপোর্ট দিতে না পারে তাহলে এতো বড়ো বড়ো ভবন দ্বীপবাসীর কী উপকারে আসবে! তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "সরকারের কোটি কোটি টাকার এই সম্পদ দ্বীপের ১২,০০০ হাজার মানুষের চাহিদামতো চিকিৎসার যোগান দিতে পারছে না। এটা পুরো দ্বীপবাসীর জন্য একধরনের কৃত্রিম অভিশাপ।""সেন্টমার্টিন ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল" নিয়ে স্হানীয়দের অভিযোগ তুলার পর 'দৈনিক নিরপেক্ষ'র অনুসন্ধান টিম সরাসরি সরেজমিনে যায় এবং দ্বীপের মানুষের অভিযোগ গুলোর প্রকৃত কারণ খুজার চেষ্টা করে।হাসপাতালের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসক ডা. শহিদুল ইসলাম জানান, "আমরা সে সব রোগীদের রেফার করি যাদের সিচুয়েশন ক্রিটিকাল। এই ধরুন, কিছু কিছু রোগীর বিপি এবং ব্লাড সুগার এতো বেশি থাকে যে তাদের চিকিৎসা করা অনেক সময় আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।"তিনি আরও বলেন - সেন্টমার্টিন যেহেতু প্রত্যন্ত অঞ্চল সেহেতু, এই দ্বীপের সকল মানুষকে আমরা সেবা দিতে চাই কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আমরা নিরুপমায়। যেমন: হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী, সে পরিমাণ সেবা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট জনবল নেই।তিনি পরামর্শ দেন, হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে যদি জনবল নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে স্হানীয়দের যে অভিযোগ গুলো রয়েছে তা আর থাকবে না। আমাদের যে পরিমাণ সক্ষমতা রয়েছে তা দ্বীপবাসীর জন্য যথেষ্ট নয়। আরও সক্ষমতা প্রয়োজন। এভাবেই যুগের পর যুগ সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত