প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক আশরাফুল জাহান শাওলিনের ভবিষ্যদ্বাণী: ব্রাজিলই চ্যাম্পিয়ন
ডেস্ক রিপোর্ট ||
বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপ যখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন ফুটবল বিশ্লেষণ ও আলোচনায় উঠে আসছে নানা সম্ভাবনা ও পরিসংখ্যান। এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক আশরাফুল জাহান শাওলিন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত আশরাফুল জাহান শাওলিন মনে করেন, বর্তমান ব্রাজিল দলটি শুধুমাত্র প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত নয়, বরং ইতিহাস, পরিসংখ্যান, কোচিং দক্ষতা এবং দলীয় ভারসাম্যের বিচারে বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।তিনি বলেন, “ফুটবলে ইতিহাস সবসময় ফলাফল নির্ধারণ করে না, কিন্তু কিছু পরিসংখ্যান ও ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। এবারের বিশ্বকাপে সেই ইঙ্গিতগুলো ব্রাজিলের পক্ষেই যাচ্ছে।”ভিনিসিয়ুসের কীর্তি নতুন আশার বার্তাঃ চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে দুটি গোল করে তিনি নিজের নাম লিখিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তিদের পাশে।এর আগে ১৯৭০ সালে জাইরজিনহো, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রোনালদো ও রিভালদো বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করেছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই তিনটি আসরেই ব্রাজিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।আশরাফুল জাহান শাওলিন বলেন, “ভিনিসিয়ুসের এই অর্জন নিছক একটি পরিসংখ্যান নয়। এটি ব্রাজিলের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। অতীতের ইতিহাস যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা সময়ের ব্যাপার মাত্র।”২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মরিয়া সেলেসাওরাঃ ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিরোপার অপেক্ষায় রয়েছে ব্রাজিল। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২—প্রতিটি আসরেই প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে দলটি।তবে আশরাফুল জাহান শাওলিন মনে করেন, দীর্ঘ এই অপেক্ষাই ব্রাজিলকে আরও ক্ষুধার্ত করে তুলেছে।তিনি বলেন, “ব্রাজিলের মতো ফুটবল পরাশক্তির জন্য ২৪ বছর শিরোপাহীন থাকা বড় ব্যাপার। খেলোয়াড়দের মধ্যে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কাজ করছে, যা তাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে।”আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা হতে পারে বড় পার্থক্যঃ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বও ব্রাজিলের বড় শক্তি বলে মনে করেন এই শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক।রিয়াল মাদ্রিদসহ ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে অসংখ্য সাফল্যের অভিজ্ঞতা থাকা আনচেলত্তি বড় ম্যাচে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষ। বিশেষ করে নকআউট পর্যায়ের ম্যাচে তাঁর অভিজ্ঞতা ব্রাজিলকে অন্য দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে রাখছে।তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার দুর্দান্ত মেলবন্ধনঃ বর্তমান ব্রাজিল দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের চমৎকার সমন্বয়। একদিকে নেইমার ও ক্যাসিমিরোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার, অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো ও এন্ড্রিকের মতো উদীয়মান তারকারা দলকে এনে দিয়েছেন নতুন গতি ও প্রাণশক্তি।শাওলিনের মতে, “একটি সফল দলের জন্য যেমন অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন তারুণ্যের গতি ও সাহস। বর্তমান ব্রাজিল দলে এই দুইয়ের নিখুঁত সমন্বয় রয়েছে।”যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ফিরতে পারে সোনালি স্মৃতিঃ ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ জিতে চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলেছিল ব্রাজিল। ৩২ বছর পর আবারও উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেক সমর্থক এটিকে শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।যদিও ফুটবল মাঠে কাকতালীয় ঘটনা দিয়ে ফলাফল নির্ধারণ করা যায় না, তবুও ইতিহাসের এই মিলগুলো সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে।“ব্রাজিলই হবে চ্যাম্পিয়ন”ঃ ফুটবল বিশ্লেষণ, মাঠ পর্যায়ের ক্রীড়া কার্যক্রম এবং দীর্ঘ সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতার আলোকে আশরাফুল জাহান শাওলিন দৃঢ় কণ্ঠে বলেন—“আমার বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রস্তুত দল ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের ফর্ম, আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং ইতিহাসের ইতিবাচক ইঙ্গিত—সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি এবার ব্রাজিলের হাতেই উঠবে।”এখন সময়ই বলে দেবে তাঁর এই ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সত্যি হয়। তবে ব্রাজিল সমর্থকদের হৃদয়ে নতুন করে যে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন জেগে উঠেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত