প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবে মতলবের প্রবাসী জসিম উদ্দিনকে হত্যার অভিযোগ, মরুভূমিতে মিলল মরদেহ
ডেস্ক রিপোর্ট ||
সৌদি আরবে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রবাসী মোঃ জসিম উদ্দিনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে। দেশটির আল কাসিম এলাকার একটি মরুভূমি থেকে বালুচাপা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের অভিযোগ, টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে জসিমকে হত্যা করে মরদেহ বালুর নিচে চাপা দেওয়া হয়। পরে তাঁর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।নিহত জসিম উদ্দিন উপজেলার ঘাশিরচর গ্রামের আয়্যুব আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন এবং আল কাসিমের আল গাম্মাস এলাকার একটি মাজরায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী রুমা আক্তার ও তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।পরিবারের দাবি, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে প্রায় চার লাখ টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হন জসিম। পরে ওই সহকর্মী তাঁর টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় জসিমকে পেছন থেকে আঘাত করা হলে তিনি মারা যান বলে অভিযোগ পরিবারের।স্বজনদের অভিযোগ, এরপর মরদেহ পাশের মরুভূমিতে বালুচাপা দিয়ে রেখে জসিমের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। ওই ফোন ব্যবহার করে তাঁর স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে জসিমকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতেও আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।পরে ২৫ সেপ্টেম্বর জসিমের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানানো হয়। সৌদি আরবে থাকা তাঁর এক সহকর্মীর মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। তাঁদের দাবি, কয়েকজন শ্রমিক বালুর ওপর মরদেহের অংশবিশেষ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।এ ঘটনায় জসিমের স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। স্বজনেরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।তবে সৌদি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত