সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৩০ বছর ধরে বন্ধ পিডিপি -এর বিদ্যুৎ এবং টিএনটি কার্যক্রম।
সেন্টমার্টিনের উন্নয়নের স্বার্থে টিএনটি ও পিডিবি কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি।।বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি হাজারো মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও জীবিকার ঠিকানা। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এই দ্বীপের মানুষ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়নের নিদর্শন, যা একসময় চালু থাকা টিএনটি টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পিডিবির বিদ্যুৎ কার্যক্রম১৯৯৪ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ও অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেগুলো আর পুনরায় চালু করা হয়নি।প্রায় ২৫ অথবা ৩০ বছর ধরে কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার যে দূরদর্শী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, সেন্টমার্টিনেও তার ছাপ স্পষ্ট ছিল। তাঁর সময় ও তাঁর আদর্শে পরিচালিত বিএনপি পরিবারের প্রচেষ্টায় দ্বীপে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, তা আজ শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কেন সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হলো না?সেন্টমার্টিন দ্বীপের সচেতন নাগরিক তথা সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহবায়ক, যুবদল এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল জনাব আয়াজ উদ্দিন কাজল বলেন, "দুঃখজনক হলেও সত্য, টিএনটি এবং পিডিবির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হওয়ার ফলে সেন্টমার্টিনের মানুষ আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে নানাভাবে পিছিয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ শুধু একটি সুবিধা নয়, এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের মূল চালিকাশক্তি। বিদ্যুৎহীন একটি জনপদ কখনোই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না"।এছাড়াও তিনি আরও বলেন -বর্তমান সময়ে যখন সমগ্র দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সেন্টমার্টিনের মানুষের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। পর্যটন শিল্পের বিকাশ, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্যও বিদ্যুতের বিকল্প নেই।অন্যদিকে, টিএনটি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্বীপটি প্রায়ই মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মোবাইল নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে গেলে নির্ভরযোগ্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সময়মতো তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে দ্বীপবাসীর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে দেশবাসী অন্ধকারে থেকে যায় এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছাতেও বিলম্ব ঘটে।সেন্টমার্টিনের মতো একটি কৌশলগত ও পর্যটননির্ভর অঞ্চলে টিএনটি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পুনরায় চালু করা কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি দ্বীপবাসীর ন্যায্য অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থেরও অংশ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও তাঁর উন্নয়ন দর্শনের প্রতি সম্মান জানিয়ে অতীতে চালু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো পুনরায় কার্যকর করা সময়ের দাবি।অতএব, আমরা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি—সেন্টমার্টিন দ্বীপে টিএনটি টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পিডিবির বিদ্যুৎ কার্যক্রম পুনরায় চালু ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য । সেন্টমার্টিনের মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং দুর্যোগকালে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।সেন্টমার্টিনের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন। দ্বীপবাসীর ন্যায্য দাবি পূরণে এখনই সময় বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণের।সরকারের কাছে দ্বীপবাসীর একটাই চাওয়া - পূণরায় পিডিবি -এর বিদ্যুৎ চালু করা হউক, সাথে টিএনটি কার্যক্রম।