চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায়, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জাবের হুসনাইন সানীব এবং মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসানের নেতৃত্বে এসআই সাদেক, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই রেজাউল ও এএসআই মোঃ রবিউলের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ তদন্ত টিমের সফল অভিযানে উদ্ঘাটিত হয়েছে কলাকান্দার সেই আলোচিত ও সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক নারীর বিকৃত মরদেহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরলস অনুসন্ধানের মাধ্যমে অবশেষে সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে মোঃ জনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানার পুলিশ কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মরদেহটি বিকৃত অবস্থায় ছিল এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। পরে বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।
সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে চাঁদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় মতলব উত্তর থানা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্ত টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন সেল বিশ্লেষণ, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিদিন তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও নিবিড় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মামলার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে মোঃ জনি নামের এক ব্যক্তির ওপর পুলিশের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে গত ১৭ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে জনি তার মা মজিদা বেগমকে ছ্যাংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে নির্জন পরিবেশে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি আড়াল করার উদ্দেশ্যে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একটি দূরবর্তী পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মতলব উত্তর থানা পুলিশের এই সফল অভিযানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস একটি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটিত হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, ধারাবাহিক নজরদারি এবং পেশাদার অনুসন্ধানের মাধ্যমে জটিল এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে মতলব উত্তর থানা পুলিশ আবারও তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং অপরাধ দমনে সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।