একটি অনৈতিক সম্পর্ক এবং ভুল সিদ্ধান্ত কীভাবে একাধিক পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তার এক নির্মম বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায়। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ভেঙে গেছে একটি প্রতিষ্ঠিত সংসার, আর মা-বাবার ভুলের মাশুল দিয়ে এতিম (মাতৃত্ববঞ্চিত) হতে হয়েছে ৫ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে।
জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর কলেজ সংলগ্ন এলাকার মনির হোসেনের মেয়ে মারিয়া আক্তারের সাথে কলেজ জীবনেই পার্শ্ববর্তী লামচূড়ি গ্রামের মৃত শুক্কুর মাস্টারের ছেলে সোহানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে মারিয়ার পরিবার তাকে একটি প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত পরিবারে বিয়ে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পরও মারিয়া তার কথিত প্রেমিক সোহানের সাথে পরকীয়া ও অবৈধ যোগাযোগ বজায় রাখেন। একপর্যায়ে তিনি তার ৫ বছরের শিশু সন্তান ও স্বামীকে ছেড়ে কথিত প্রেমিক সোহানের সাথে পালিয়ে যান। পরে তারা ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বিবাহবহির্ভূতভাবে বসবাস শুরু করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে মারিয়ার স্বামীর পক্ষ থেকে পারিবারিকভাবে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মেয়ের পরিবারের অসহযোগিতা এবং উগ্র আচরণের কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে স্বামী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) সম্পন্ন হয়।
এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দুটি সাজানো পরিবার যেমন ধ্বংস হয়েছে, তেমনি সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয়েছে ৪ বছরের নিষ্পাপ শিশুটি, যার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
এ বিষয়ে মারিয়া আক্তারের বাবা মোঃ মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন তার মেয়ে এখন কোথায় আছে কার সাথে আছে কিভাবে আছে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এবং মারিয়া র ৫ বছরের বাচ্চা কোথায় থাকে সেটাও তিনি জানেন না।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং অনৈতিক সম্পর্কের কারণেই সমাজে এই ধরনের বিপর্যয় বাড়ছে। বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হওয়ার আগে অবশ্যই পাত্র-পাত্রীর অতীত ইতিহাস, চরিত্র, পারিবারিক অবস্থান ও নৈতিক মূল্যবোধ ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত। তা না হলে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তের ভুল পরিণতি পুরো পরিবারকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।"