সারাদেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলাতেও। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক এলাকায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ফিরে আসে না। দিনের বেলাতেও কয়েক দফায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী এবং কর্মজীবী মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই রাতভর ঘুমাতে পারছেন না।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের গতি কমে গেছে। পানির মোটর চালানো, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইনভিত্তিক কাজ এবং ছোট ব্যবসা পরিচালনায়ও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়ও উদ্বিগ্ন অনেক পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু একদিন নয়, টানা কয়েকদিন ধরেই একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নির্ধারিত সময়সূচি ছাড়াই বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাইমচরের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিং দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জনজীবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এ অবস্থায় হাইমচরের বাসিন্দারা দ্রুত পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের কারণ ও সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে আগাম তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।