চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রেমিক যুগলকে পথরোধ করে জোরপূর্বক আটকে রেখে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া একটি ভিভো স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তার প্রেমিকাকে নিয়ে মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি উয়েশিয়া দরবার শরীফ জিয়ারত শেষে ফেরার পথে দরবার শরীফের অতিথি ভবনের সামনে পৌঁছান। এ সময় মেজবাহ উদ্দিন, মো. গোলাম হাবিব সুজন, জিসান মাহমুদ, আরিফুর রহমান, সোলেমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ।
পরে তাদের জোরপূর্বক আটক করে মেজবাহ উদ্দিনের ফুফুর বাড়ি ফরাজীকান্দি শিকদার বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে পুলিশ জানায়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুন তার ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর থেকে মো. গোলাম হাবিব সুজনের বিকাশ নম্বরে ৩১ হাজার টাকা পাঠান। বাকি ২০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে তার ব্যবহৃত একটি ভিভো স্মার্টফোন আসামিদের হেফাজতে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বাকি টাকা আদায়ের জন্য মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার, মতলব সার্কেল জাবীর হুসনাইন সানীব, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলিমুল হক প্রধানের তত্ত্বাবধানে এসআই জীবন চৌধুরী ও এএসআই রবিউল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে মেজবাহ উদ্দিন (৩২), মো. গোলাম হাবিব সুজন (৩৫) ও জিসান মাহমুদ (৩৮)কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
মতলব উত্তর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।