সেন্টমার্টিন ঘাটে যুগ যুগ ধরে চলছে রশিদ ছাড়া টোল আদায়।
আবদুল হামিদ, সেন্টমার্টিন (কক্সবাজার) প্রতিনিধি।
প্রায় ১৮০ বছর ধরে এই সেন্টমার্টিন দ্বীপে মানুষের বসবাস। গত ১০০ বছরেও পরিবর্তন হয়নি ঘাটে টোল আদায়ের নিয়ম। স্হানীয়দের অভিযোগ - যুগ যুগ ধরে অতিরিক্ত টোল ভাড়া নেওয়া হয়। যার নির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অনুরূপ ঘাঠ আছে। কিন্তু, সেখানে এমন অনিয়ম দেখা যায় না। কারণ, প্রতিটা ঘাটেই মালামালের টোল আদায়ের নির্ধারিত মূল্য তালিকার চার্ট টাঙ্গিয়ে দেওয়া থাকে। কিন্তু, সেন্টমার্টিন দ্বীপের ঘাটের চিত্র ভিন্ন। এই ঘাটে আছে অদ্ভুত নিয়ম। এই ঘাটে নেই কোনো মূল্য তালিকা, নেই কোনো নির্ধারিত দাম, নেই কোনো টোল আদায়ের রশিদ বই।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি মাত্র ঘাট। দ্বীপের সকল মালামালের ওঠা-নামার কার্যক্রম চলে এই ঘাটে। একটাই যেহেতু ঘাট, সেহেতু ঘাটের দায়িত্বশীলরা অতিরিক্ত টোল ভাড়া আদায় করে থাকে। দ্বীপের মানুষ ঘাটের ইজারাদারদের চাওয়া অনুযায়ী টোল ভাড়া পরিশোধ করে। কিন্তু, দুঃখের বিষয় হলো - সাধারণ মানুষ যে টোল আদায় করে তার কোনো রশিদ ইজারাদার'রা দেয় না। ফলে, ভুক্তভোগীরা জানতে পারে না, কোন পণ্যের জন্য কত টাকা টোল নেওয়া হলো।
সেন্টমার্টিন ঘাটের এমন অনিয়মের অভিযোগের সঠিক তদন্ত করার জন্য ' দৈনিক নিরপেক্ষ' অনুসন্ধান টিম দ্বীপের অলিতে-গলিতে গিয়ে জানতে পারে - ঘাটের অনিয়মের সাথে দ্বীপের সচেতন মহলেরও সম্পৃক্ততা আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূর্ব পাড়ার একজন স্হানীয় বাসিন্দা বলেন, 'আমাদের দ্বীপের প্রতিনিধি'দের মধ্যে কারও যদি মালামাল আসে তাহলে ঘাটের ইজারাদার'রা হিসাব করে করে ছাড় দিয়ে টোল নেন, কিন্তু কোনো একজন অসহায় গরীব পরিবারের মেয়ের ফার্নিচার টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন ঘাটে আসলে সেই ফার্নিচার গুলোর টোল চোখ বন্ধ করে নেয়। কেনোরকম ছাড় দেওয়া হয় না।
দ্বীপের আরেকজন মুরুব্বি বলেন, 'আমার ঘরটি আজ ১০ বছর ধরে পরিত্যাক্ত অবস্হায় পড়ে আছে। মেরামতের জন্য যে মালামাল আনবো তার জন্য ঘাটে যে হাছিল ভাড়া দিতে হবে সেই টাকা মেরামতের মালামাল ক্রয়ের অর্ধেক। এখন আপনিই বলেন, কেমনে ঘর মেরামত করি?
রহিম বলেন, আমি বাড়ির জন্য টিন কিনেছি ১ বাইন ৪,৫০০০/- টাকা দিয়ে। সেই ১ বাইন টিনের বোট ভাড়া, ঘাটের হাছিল ভাড়া, লেভার ভাড়া মিলিয়ে ১,৫০০/- টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। ৪,৫০০/- টাকার তিনের জন্য খরচ হয়েছে ১,৫০০/- টাকা। কীভাবে জিনিসপত্র আনবো?
টেকনাফ ঘাটেও সেন্টমার্টিনগামী সকল মালামালের জন্য অতিরিক্ত বিভিন্ন টোল ভাড়া আদায় করতে হয় বলে স্হানীয়রা জানিয়েছেন। টেকনাফে এক হয়রানি আর সেন্টমার্টিন ঘাটে এক হয়রানি।
অবশেষে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের সচেতন ব্যক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের সভাপতি জনাব নুরুল আলম আরমান উদ্যোগ নেন - ঘাটের এই অনিয়ম দূর করার জন্য। তিনি দ্বীপের সর্বস্তরের মানুষকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। এমনকি তিনি দ্বীপের অলিগলিতে মাইকিং করে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, 'আজ থেকে সেন্টমার্টিনে ইজারার রসিদ ও মুল্য তালিকা না দিলে কোন প্রকার ঘাটের টুলের টাকা না দেওয়ার অনুরোধ রইল'।
দ্বীপের সর্ব সাধারণ এমন সুন্দর সিদ্ধান্তের প্রতি সাধুবাদ জানিয়েছেন। এতে জনসাধারণ অনেক খুশি। তবে কখন থেকে মূল্য তালিকা অনুযায়ী টোল আদায়ের কার্যক্রম চালু করা হবে তা এখনো জানা যায় নি।