সংবাদ প্রকাশের পরেই সেন্টমার্টিন ঘাটে সরকারি মূল্য তালিকা অনুযায়ী হচ্ছে টোল আদায়।
সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। ৮ বর্গ কিলোমিটারের দ্বীপটিতে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস। ১২ হাজার মানুষের পণ্য সামগ্রী আনা-নেওয়ার জন্য আছে একটি মাত্র ঘাট। ২৭ জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঘাটের কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এতে দ্বীপের মানুষের তথা ব্যবসায়ীদের পণ্য সামগ্রী আনা-নেওয়া সহজ হয়েছে।
গত ১০০ বছরে ঘাটের টোল আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম দেখা গেলেও বর্তমানে যারা ঘাট পরিচালনা করছেন তারা ঘাটের সকল কার্যক্রমকে একটি সুন্দর নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছেন।
গত ০৯ জুন'২০২৬ইং, "সেন্টমার্টিন ঘাটে যুগ যুগ ধরে চলছে রশিদ ছাড়া টোল আদায়" শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ ১০ জুন'২০২৬ ইং সরেজমিনে গেলে দেখা যায় তার বিপরীত চিত্র। টোল আদায় হচ্ছে রশিদ এর মাধ্যমে। নিত্যপণ্যের হাছিল ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ন্যায্যা মূল্যে।
ঘাটে মালামাল নিতে আসা কয়েকজন দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান - আমাদের দোকানের মালামাল প্রতিদিন টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন এই ঘাটে আসে। কখনো আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল ভাড়া নেওয়া হয় না। একজন মুদি দোকানদার বলেন, 'ঘাটে আমি অটো গাড়ি পাঠিয়ে দিই টেকনাফ থেকে আসা পণ্যের টোল ভাড়া হিসাব করে ড্রাইভার কে দিলে ঘাট থেকে সেই মালামাল দোকানে নিয়ে আসে'।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অনেক অসহায় পরিবারকে ঘাট কর্তৃপক্ষ ফার্নিচারের হাছিল ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন।
দ্বীপের গলাচিপার বাসিন্দা হাফেজ উল্লাহ জানান, 'আমি ফার্নিচার এনেছি অনেকগুলো। আমি আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকায় ঘাটের ইজারাদার আব্দুল্লাহ আল মামুন কে জানালে তিনি আমার কাছ থেকে টাকা নেন নি'।
পশ্চিম পাড়ার সুলতান জানান, 'আমিও কয়েকদিন আগে টেকনাফ থেকে বেশ কিছু ফার্নিচার এনেছিলাম। আমার কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো টোল ভাড়া নেওয়া হয়নি'।
ঘাটের মূল দায়িত্বে থাকা আবদুল্লাহ আল মামুন এর কাছে ঘাটের বর্তমান টোল আদায়ের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান - আমরা সরকারি মূল্য তালিকা অনুসরণ করে রশিদ এর মাধ্যমে টোল আদায় করছি'।